13 November 2015

একালের দধীচি

মধুসূদন মিহির চক্রবর্তী
সকালের মর্নিং ওয়াকে বেরিয়েছিলাম। যে ক'দিন গ্রামে থাকি, চেষ্টা করি ভোরের বেলা হাঁটতে। যেতে যেতে গ্রামের আরও গভীরে যাচ্ছি। কপালের বাঁ-দিকটায় একটু একটু করে রোদ্দুরের আঁচ বাড়ছে বলে মনে হচ্ছে । এ সপ্তাহের অন্য অনেক দিনের তুলনায় মনটা একটু ভালো আজ। আমাদের বাড়ির দক্ষিণ দিক দিয়ে পিচঢালা যে রাস্তাটি চলে গেছে সেটি ধরেই দ্রুততম গতিতে এগোচ্ছি। ঘাম শুরু হয়ে গেছে, গলা শুকিয়ে আসছে বলে রাস্তার পাশের টিউবওয়েল চেপে জলতেষ্টা মেটালাম। তারপর হাঁটছি তো হাঁটছিই। বাঁ-দিকটায় তাকালেই কিলোমিটার দূরের ময়নামতি সেনাছাউনীর আওতাধীন অনুচ্চ পাহাড়শ্রেণী উঁকি দিচ্ছে আমাকে দেখে । লালমাটির পাহাড়ের সবুজকে একটু একটু করে হলুদে গ্রাস করে নিচ্ছে।

12 November 2015

হৃদপিন্ড

মধুসূদন মিহির চক্রবর্তী
চোখ ভিজে ঝাপসা হয়ে আসছিল দৃষ্টি, বারংবার চোখ মুছতে হচ্ছিল। সাত পৃষ্ঠার সুইসাইড নোট লিখতে লিখতে ভোরের ফজরের আযান দিচ্ছিল তখন। লেখা শেষ হলে ঘুমিয়ে পড়েছি ক্লান্তিতে। স্বপ্নে দেখছি লাশকাটা ঘরে শুয়ে আছি। ফ্লোরটি বরফশীতল, পিঠে ঠাণ্ডা অনুভব করছিলাম খুব।  আমার বুক চিরে ডাক্তার ও ডোম পরস্পর বলাবলি করছে :
- স্যার, এইডা কেমুন লাশের বুক ফাড়লাম?
- কেন কি হয়েছে?
- স্যার, হ্যায় তো জীবিত। মরে নাই।
- কি বলো?
-ঠিকি কইছি স্যার। এই পরথম দ্যাখতাছি এই রহম কেইছ! এই দ্যাহেন স্যার হ্যার দুইটা রিদপিন্ডো। একটা দ্যাখতাছি ছ্যাঁকায় ছ্যাঁকায় পোড়া কইলার লাহান হইয়া গেছে। আরেকটা দ্যাহেন খালি 'মা' 'মা' 'মা' নাম জপতেয়াছে।  জীবনে এত লাশ কাটছি, এই রহম গরম শইলের লাশ কক্ষনো পাই নাই।
- তাই তো!  অবাক ঘটনা বটে!

21 October 2015

শিউলি

নাজমা সুলতানা তুহিন

খুব শৈশবে শিউলি ফুল আমাকে খুব টানত। শিউলি ফুলের ঘ্রানে আমি কি করে যেন বুঝে যেতাম শরতএসেছে। সেই থেকে শরত আমার প্রিয় ঋতু। প্রিয় ঋতুতে খুব ভোরে উঠে শিউলি কুড়াতাম।
ক্লাস ফোরে পড়াকালীন সময়ে আমরা থাকতাম টাংগাইলে। বাবার চাকরীর সুবাদে বিশাল এক হিন্দু বাড়ি ছিল আমাদের আবাস। সেই দোতলা বাড়ির বেডরুমের সাথে লাগোয়া বিশাল একটা ছাদ। নানা ধরনের ফুল গাছ দিয়ে ছাদটি ঘেরা ছিল। তার মধ্যে একটি গাছ ছিল শিউলি।
শরতকালে পুরো ছাদ ছেয়ে থাকত শিউলি ফুলে।খুব ভোরে আব্বু ঘুম থেকে তুলে বলত-যা ছাদে গিয়ে দেখে আয়। আধো ঘুম, আধো জাগরনে দেখতাম সাদা ও

16 October 2015

খাদ্য এবং খাদক

আশরাফ-উল আলম শিকদার
 
সিংহকে দেখে মানুষটাতো ভীষণ ভয় পেয়ে গেল। আফ্রিকার ঘন জঙ্গলে একেবারে মুখোমুখি দু’জন।
সিংহ বললো, ভয় পেয়ে না। আমি আজ তোমাকে মারবো না। আমার পেট আজ একেবারে ভর্তী।
মানুয়ের ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়লো। সে তখন বললো, বাহ! ভাল! এখন আমি তোমাকে গুলি করে মারবো, কারন, আমার পেটতো কখনই কিছুতেই ভরে না।
সিংহ অবাক হয়ে মানুষের পাচকতন্ত্রের দুর্বলতার কথা ভাবতে থাকলো।

15 October 2015

বিক্রয় বিজ্ঞপ্তি



বিক্রয়  করা হবে,  শিশুর অব্যবহৃত জুতা ।
“For sale: Baby shoes. Never worn.”
Hemingway